আপডেটের সময়ঃ এপ্রিল ৩০, ২০২৬
ডেস্ক রিপোর্ট:-
বিজু-সাংগ্রাই-বৈসুক-বিহু-সাংক্রান-চাংলান-পাতা উৎসবকে ঘিরে পার্বত্য চট্টগ্রামে উৎসবের আমেজ। আর এই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী খাবার পাঁচন। পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের প্রতিটি ঘরে ঘরে চলছে উৎসবের আমেজ। প্রতিটি গ্রামে,পাড়া-মহল্লা এখন উৎসব মুখর পরিবেশ।
বিজু-সাংগ্রাই-বৈসুক-বিহু-সাংক্রান-চাংলান-পাতা উৎসবকে এলেই পাহাড়ে নেমে আসে আনন্দের ঢেউ। ঘরে ঘরে রান্না হয় ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘পাঁচন’।
প্রায় ৪০ ধরনের সবজি দিয়ে তৈরি এই খাবার, কোথাও আবার সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় ১৫০-এও। অতিথি আপ্যায়ন আর বাড়ি বাড়ি যাওয়া-আসার মধ্য দিয়ে উৎসব পায় ভিন্ন মাত্রা।
এখন এই উৎসব শুধু পাহাড়িদের নয়—পাহাড়ী ও বাঙালি সব জনগোষ্ঠীর মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
এদিকে, রাঙামাটি শহরের ভেদভেদী এলাকার পাহাড়ী নারী সুমনা চাকমা বলেন,পাঁচন হচ্ছে আমাদের বিজু উৎসবের মুল খাবার। এটা ছাড়া এই উৎসব সম্পন্ন হয়না। তিনি বলেন, এই পাচন খেলে রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়—এমন বিশ্বাস রয়েছে। বিজুর দিনে সবাই সবার বাড়িতে যায়, এতে সম্প্রীতি বাড়ে।
অন্যদিকে, সোমবার দুপুরে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি রাঙামাটিতে তার নিজ বাস ভবনে বিজু, সাংগ্রাই, বিষু, বিহু, সাংক্রান, চাংলান ও পাতা উৎসব উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বলেন, এসব উৎসব নিজ নিজ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী আবহমানকাল থেকেই তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি অনুযায়ী এসব উৎসব উদযাপন করে আসছে। বিগত সরকার ‘বৈসাবি’ নাম দিয়ে সীমিত কয়েকটি সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। তবে বর্তমান সরকার প্রত্যেক জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজস্ব নামে উৎসব পালনের সুযোগ করে দিচ্ছে, যা তাদের সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, এসব উৎসব আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু পার্বত্য অঞ্চলের অনেক জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। সেই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে সরকার বদ্ধপরিকর।প্রতিটি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকার কাজ করছে।”
তিনি জানান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবিত করতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
ঐতিহ্য আর সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে বিজু-সাংগ্রাই-বৈসুক-বিহু-সাংক্রান-চাংলান-পাতা এখন পাহাড়ে এক মিলনমেলার নাম।