পাহাড়ের উৎসব ভিন্ন নামে, কিন্তু সুর এক—সম্প্রীতির বার্তা দিলেন পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান


আপডেটের সময়ঃ এপ্রিল ৩০, ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট:-

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন, পাহাড়ের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর উৎসবগুলোর নাম ভিন্ন হলেও এগুলোর মূল সুর একটাই—মৈত্রী ও সম্প্রীতি। তিনি বলেন, “বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান ও চাংলান—নামের ভিন্নতা থাকলেও এসব উৎসব আমাদের ঐক্য ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের প্রতীক।”

সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে রাঙামাটিতে পাঁচ দিনব্যাপী বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান ও চাংলান এবং বাংলা নববর্ষ উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, পাহাড় ও সমতলের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকবে না। প্রত্যেক জাতিগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব নামে উৎসব উদযাপন করবে—চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই, ত্রিপুরাদের বৈসু, তঞ্চঙ্গ্যাদের বিষু এবং ম্রো ও চাকদের চাংক্রান। বাঙালিদের নববর্ষ এবং পাহাড়ের এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব মিলেমিশে সম্প্রীতির এক অনন্য মহোৎসব তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, “আমাদের সংস্কৃতি যত সমৃদ্ধ হবে, আমরা তত এগিয়ে যাব। এই উৎসবের মাধ্যমে আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি দেশ-বিদেশে তুলে ধরতে চাই।” পাশাপাশি তিনি সবাইকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠান উদযাপনের আহ্বান জানান।
রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ উৎসবের আয়োজন করেছে সংশ্লিষ্ট ইনস্টিটিউট। এতে সহযোগিতা করছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, রাঙামাটি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল একরামুল রাহাত, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক জিতেন চাকমা।

এর আগে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি রাঙামাটি সরকারি কলেজ মাঠ থেকে শুরু হয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, খেলাধুলা, পণ্য প্রদর্শনী, নাটক মঞ্চায়নসহ নানা আয়োজন। বসানো হয়েছে বিভিন্ন স্টলও। ৬ এপ্রিল শুরু হওয়া এই উৎসব চলবে আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত।

এদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু, বৈসু ও সাংগ্রাইকে ঘিরে ইতোমধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো অঞ্চলে। প্রতি বছর চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসব ১২ থেকে ১৪ এপ্রিল তিন দিনব্যাপী মূল পর্বে উদযাপিত হয়।