কমিটিকে কেন্দ্র করে রাঙামাটিতে ছাত্রদলের দুই গ্রুপ মুখোমুখি, ১৪৪ ধারা জারি


আপডেটের সময়ঃ মে ৬, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় দিনের মত দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে নিয়েছে। সোমবার ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় শহরের কাঠালতলী এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরে পৌরসভা চত্বর থেকে কাঠালতলী, বনরুপা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এই ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছে।

 

সোমবার দুপুরে কেন্দ্র ঘোষিত জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে পদবঞ্চিতরা কমিটি বাতিলের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মত জেলা বিএনপি’র কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় তারা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে প্রধান সড়কে বিক্ষোভ করে ।

একই সময় নবগঠিত কমিটি সভাপতি অলি আহাদ সাধারণ সম্পাদক রনির নেতৃত্বে একটি আনন্দ মিছিল বের করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পদ বঞ্চিতরা দুপুর ১২টা থেকে জেলা কার্যালয়ের অবস্থান নিয়ে তিনটা পর্যন্ত দখলে রাখে। অপরদিকে পৌরসভা চত্বর সহ শহরে বেশ কয়েকটি এলাকায় নতুন কমিটিকে স্বাগত জানাতে একত্রিত হয় একাংশের নেতাকর্মীরা। বিকেল তিনটার দিকে নতুন কমিটির সমর্থকরা সংঘবদ্ধভাবে এসে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে বিএনপি অফিস দখলে নেয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা কাঠালতলী ও বনরুপার বিভিন্ন এলাকায় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

এ ঘটনায় আশেপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। জেলা বিএনপির কার্যালয় সহ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়।
এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে বনরুপা এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেনাবাহিনী এসে দুপক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন বলেন, ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অলি আহাদ বলেন, ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে কিছু পদবঞ্চিত নেতা বিক্ষোভ করছেন। এটা স্বাভাবিক বিষয়। নতুন কমিটি সকলের সাথে আলোচনা করে ছাত্রদলের কাজকে আর শক্তিশালী করবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ আট বছর পর গত শনিবার (২ মে) কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হয় রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের কমিটি।
২৩ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটিতে অলি আহাদকে সভাপতি, খাইরুল ইসলামকে সিনিয়র সহ-সভাপতি নাঈমুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক ও মোঃ গালিব হাসানকে সাংগঠনিক নবনির্বাচিত করা হয়। জেলা ছাত্রদলের একাংশ কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর উচ্ছাস প্রকাশ করলেও পদ বঞ্চিতরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাদের অভিযোগ এই কমিটি অছাত্র, বিবাহিত, মাদক কারবারী ও গুরুতর অপরাধের মামলার আসামিতে ভরপুর। কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র নেতারা টাকার বিনিময়ে এ কমিটির ঘোষণা করেছে বলে অনেকের অভিযোগ।