সাজেকে বনবিভাগের কার্যালয়ে লুটপাট-ভাঙচুর, এক বনরক্ষী আহত


আপডেটের সময়ঃ ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে বনবিভাগের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় ইউপিডিএফ। এ ঘটনায় আশরাফুল আলম নামে এক বনরক্ষী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। এ ছাড়া বনবিভাগের কার্যালয়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট করা এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সাজেকের মাচালং একুইজ্জাছড়ি এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা বনবিভাগের জায়গা থেকে উচ্ছেদ করতে গেলে ইউপিডিএফ নেতা সচিব চাকমার নেতৃত্বে সংঘবদ্ধভাবে লাঠি সোঠা নিয়ে বনবিভাগের কর্মীদের ওপর আক্রমণ করে ইউপিডিএফ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নারী কর্মীরা।

পরে তারা মাচালং বাজারে বনবিভাগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় আশরাফুল আলম নামে এক বনরক্ষীকে অপহরণ করার চেষ্টা করে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইউপিডিএফের অপহরণের হাত থেকে বনরক্ষী আশরাফুল আলমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায় সেনাবাহিনী।

ইউপিডিএফ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নারী সন্ত্রাসীরা পরে গাছ কেটে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এতে সাজেকে বেড়াতে আসা শত শত পর্যটক ও সাজেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমার মেয়ের বিয়েতে আসা অতিথিরা আটকে পড়েন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী সড়কের গাছ সড়াতে গেলে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নারী কর্মীরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবহার করে উসকানি দিতে থাকে। ইউপিডিএফ পরিচালিত সিএইচটি নিউজসহ বিভিন্ন আইডি ব্যবহার করে সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা বানোয়াট অপকাণ্ড ছড়িয়ে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করে। সেনাবাহিনী শান্তভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সড়ক থেকে গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা বলেন, এই ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এখানে বহিরাগত লোকজন এসে এই ঘটনা ঘটিয়েছে, মামলা হলে প্রশাসন আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সাজেক বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বনের জমিতে ইউপিডিএফ স্কুলের নামে জমি দখল করে স্থাপনা তৈরি করছে। বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছে বহুবার। বিজ্ঞপ্তি টানিয়ে দেওয়া হলেও ইউপিডিএফ বনের জমিতে জোরপূর্বক অবৈধ স্থাপনা তৈরি করছে। বাধা দিতে গেলে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং কার্যালয় ভাঙচুর করে। এই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। সাজেক থানার ওসি জানান, মামলা হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে পুলিশ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রফিকুজামান শাহ্ জানান, বনবিভাগের কিছু জায়গা দখল করে পাহাড়িরা একটি স্কুল ঘর নিমার্ণ করছে। এটি বন বিভাগ ভেঙ্গে দিয়েছে। পরে পাহাড়ি কিছু লোকজন আসে তাদের অফিসে হামলা চালায়। এতে একজন বনরক্ষী আহত হয়।