আপডেটের সময়ঃ এপ্রিল ৩০, ২০২৬
ডেস্ক রিপোর্ট:-
মৌসুমের শেষ দিকে এসে রাঙামাটির বাজারে বেড়েছে শুকনো হলুদের দাম। গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে পাহাড়ে উৎপাদিত এই মসলাজাতীয় ফসল। বর্তমানে প্রতি মণ শুকনো হলুদ বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকায়, আর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
পাহাড়ি এলাকার মাটি ও আবহাওয়া মসলাজাতীয় ফসল উৎপাদনের জন্য উপযোগী হওয়ায় রাঙামাটির বিস্তীর্ণ জমিতে প্রতি বছর ব্যাপকভাবে হলুদের আবাদ হয়। সাধারণত চৈত্র-বৈশাখ মাসে লাগানো হলুদ প্রায় ১০ মাসের মধ্যেই ফলন দেয়। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় কৃষকদের কাছেও এটি লাভজনক ফসল হিসেবে পরিচিত।
রাঙামাটি সদর উপজেলার কুতুকছড়ির হলুদ ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “এবার বাজারে শুকনো হলুদের দাম গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। পাহাড়ি এলাকার হলুদের মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে এখান থেকে হলুদ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।”
আরেক ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের জানান, “রাঙামাটির হলুদের রঙ ও মান ভালো হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা বেশি। বর্তমানে প্রতিমণ হলুদ ৮ থেকে ৯ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় আমরা নিয়মিত হলুদ পাঠাচ্ছি।”
স্থানীয় বিক্রেতা সুমন চাকমা বলেন, “মৌসুমে ট্রাকে ট্রাকে এখানকার হলুদ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। দেশের মোট চাহিদার একটি বড় অংশ এখন পাহাড়ি এলাকা থেকেই পূরণ হচ্ছে।”
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “সারা বাংলাদেশে যে পরিমাণ হলুদ উৎপাদন হয় তার সিংহভাগই রাঙামাটির পাহাড় থেকে আসে। এ বছর জেলায় প্রায় ২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে হলুদের আবাদ করা হয়েছিল। তবে গত বর্ষায় কিছু জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ২২৩ হেক্টর জমিতে আবাদ রয়েছে। এখান থেকে আমরা ভালো ফলন পাচ্ছি। এখনও পুরোপুরি হারভেস্ট শেষ হয়নি, সংগ্রহ কাজ চলছে। আশা করছি এ বছর প্রায় ৩৭ হাজার ৬৬০ মেট্রিক টন হলুদ উৎপাদন হবে।”
তিনি আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় এ বছর হলুদের ফলন আরও ভালো হয়েছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পার্বত্য জেলার পাহাড়ি পতিত জমিতে এই সম্ভাবনাময় মসলাজাতীয় ফসলের আবাদ আরও বাড়ানো গেলে দেশে হলুদ আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে। এতে দেশীয় অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের আয় বাড়বে এবং জাতীয় অর্থনীতিও আরও সমৃদ্ধ হবে।