আপডেটের সময়ঃ জানুয়ারি ২, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাঙামাটির ফুরমোন পাহাড়ে পাহাড়ী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কর্তৃক পর্যটকদের মোবাইল ছিনতাই, হেনস্থা ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখা বিক্ষোভ প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর কাঠালতলী মসজিদ প্রাঙ্গণ হতে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বনরূপা চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন এর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য, পর্যটন বিষয়ক আহ্বায়ক মো. হাবীব আজম, পিসিএনপি’র রাঙামাটি জেলা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সোলায়মান, সহ-সভাপতি কাজী জালোয়া, যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো: নূর হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মেঘ ছোঁয়ার নেশায় আসা পর্যটকরা এখানে প্রতিনিয়ত ইউপিডিএফ’র অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের হাতে অপদস্থ হচ্ছেন। এমনকি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অপহরণের মতো ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে। এতে করে পর্যটকদের স্বপ্নের এই গন্তব্য এখন এক আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। ফুরমোন পাহাড়কে পাহাড়ী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অবৈধভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করছে। পাহাড়ে ঘুরতে আসা সাধারণ পর্যটকদের গতিরোধ করে তল্লাশি চালানো, মোবাইল ছিনতাই করা, মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং নারী পর্যটকদের সাথে অশোভন আচরণের মতো ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক। অনেক ক্ষেত্রে পর্যটকরা ভয়ে মুখ না খুললেও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ বাড়ছে জনমনে।

ভুক্তভোগী সুমন বক্তব্যে বলেন, ফুরমোন পাহাড় থেকে পুরো রাঙামাটি শহরকে এক পলকে দেখা যায়। এমন একটি অমিত সম্ভাবনাময় জায়গায় দিনের আলোয় অস্ত্রধারীদের অবাধ বিচরণ করে যা নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
বক্তারা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং উদীয়মান পর্যটন শিল্পকে রক্ষা করতে হলে এখনই কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তারা অবিলম্বে রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলার সকল পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে সন্ত্রাসমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে পাহাড়ের অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।