আপডেটের সময়ঃ জুন ৯, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাঙামাটিতে পর্যটন খাতের উন্নয়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে হলে বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করার বিকল্প নেই।
রবিবার (১০ মে) রাতে রাঙামাটির বার্গী লেক ভ্যালীতে রাঙামাটি রিসোর্ট ওনার্স এসোসিয়েশনের আয়োজনে “পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটন খাতের উন্নয়ন” বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাঙামাটি রিসোর্ট ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি তনয় দেওয়ানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুমেধ চাকমার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্টের পরিচালক ললিত সি চাকমা, নীলা চাকমা, বাপ্পী তঞ্চঙ্গ্যা ও রিভু চাকমাসহ অন্যরা।
সভায় রিসোর্ট মালিকরা রাঙামাটির পর্যটন খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, শুভলং ঝরনা ও ঝুলন্ত সেতুর সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পেলে ঝুলন্ত সেতুটি পানির নিচে ডুবে যায়, ফলে পর্যটকদের ভোগান্তি বাড়ে। এছাড়া আসামবস্তী-কাপ্তাই সড়কে পর্যটকদের জন্য পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, রাঙামাটি শহরে নৌঘাট স্থাপন এবং পর্যটন খাতে দক্ষ জনবল তৈরির দাবি জানান তারা।
রিসোর্ট মালিকদের অভিযোগ, প্রতি শুক্রবার ও শনিবার বিদ্যুৎ রক্ষণাবেক্ষণের অজুহাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। এতে পর্যটক ও রিসোর্ট ব্যবসায়ীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ শিল্পপতি নন। অনেকেই পৈত্রিক সম্পত্তি বা জমি বিক্রি করে কষ্ট করে রিসোর্ট গড়ে তুলেছেন। তাদের এই উদ্যোগকে সরকার স্বাগত জানায়।” তিনি বলেন, পর্যটন উদ্যোক্তাদের জন্য আর্থিক প্রণোদনা ও নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মন্ত্রী আরও বলেন, “শুধু টাকা নয়, আমাদের ডলার আয় করতে হবে। বিদেশি পর্যটক এলে দেশের অর্থনীতিও লাভবান হবে।” এ বিষয়ে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলেও জানান।
বিদেশি পর্যটকদের পার্বত্য চট্টগ্রামে না আসার কারণ হিসেবে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ, তবে নিরাপত্তার অজুহাতে পর্যটন খাতকে অবহেলা করা যাবে না।” তিনি মনে করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব।
মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার রয়েছে। তিনি পর্যটকদের সরেজমিনে এসে বাস্তবতা দেখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, কাপ্তাই হ্রদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করতে হবে, কারণ এটি পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ, পুলিশ প্রশাসনসহ রিসোর্ট মালিকদেরও সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যা ও প্রস্তাব বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন পার্বত্যমন্ত্রী।