আপডেটের সময়ঃ ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ডিসেম্বর মাস বাঙালির হৃদয়ে গভীর দেশপ্রেম ও বিজয়ের বার্তা নিয়ে আসে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর এই মাসেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল বাঙালি জাতি। লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজের এই জাতীয় পতাকা তাই এই মাসে হয়ে ওঠে এক আবেগের প্রতীক। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসকে উপলক্ষ করে ডিসেম্বর মাস এলেই দেশজুড়ে জাতীয় পতাকার চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়।
সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ, শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান, এমনকি পাড়া-মহল্লার বাড়ির ছাদ, যানবাহন ও মোটরসাইকেলের সামনে সগর্বে ওড়ানো হয় জাতীয় পতাকা। এই বিপুল চাহিদার যোগান দিতে তৎপর হয়ে ওঠেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। রাঙ্গামাটি জেলা শহরের বনরূপা চৌরাস্তার মোড়, পার্কের সামনে ও বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে জাতীয় পতাকা বিক্রি করছেন বেশ কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ী।
বনরূপায় পতাকা বিক্রি করতে আসা মোহাম্মদ কবির জানান, “বিজয়ের মাস ছাড়া অন্য সময়ে আমি ফেরি করে কাপড়, বেডশিট, বালিশের কভারসহ বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করি। কিন্তু এই মাসে পতাকার চাহিদা বেশি থাকায় এই কাজ করছি। মাসজুড়ে ক্রেতাদের হাতে পতাকা তুলে দিয়ে যদি কিছু টাকা রোজগার হয়, তবে পরিবারের চাহিদা পূরণ করতে পারবো।”
তিনি গত ৭ থেকে ৮ বছর ধরে বিজয়ের মাস এলেই লম্বা বাঁশের উপর বড় থেকে ছোট বিভিন্ন আকারের পতাকা সাজিয়ে বিক্রির জন্য বিভিন্ন জায়গায় ছুটে চলেন।
পতাকার ক্রেতা জলি চাকমা বলেন, “ছোট নাতির জন্য পতাকা কিনলাম। বিজয়ের মাসে ছোটদের হাতে পতাকা তুলে দিলে তাদের দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগ্রত হয় এবং দেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানার আগ্রহ বাড়ে।”
মৌসুমী ব্যবসায়ী রাতুল জানান, শুধুমাত্র বিজয় দিবস নয়, ভাষা দিবস বা একুশে ফেব্রুয়ারির মতো বিভিন্ন জাতীয় উপলক্ষেও জাতীয় পতাকার চাহিদা থাকে। ঢাকা মগবাজার থেকে প্রায় দুই শতাধিক মৌসুমী ব্যবসায়ী দেশের বিভিন্ন জেলায় পতাকা বিক্রি করতে ছড়িয়ে পড়েন। ডিসেম্বর মাস জুড়ে এই পতাকা বিক্রি কার্যক্রম দেশের প্রতিটি কোনায় বিজয়ের আনন্দ ছড়িয়ে দেয়।