আপডেটের সময়ঃ মে ১১, ২০২৬
ডেস্ক রিপোর্ট:-
রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা ও অভিযোগ নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান।
রবিবার (১০ মে) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১ এর সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে গোষ্ঠীস্বার্থে প্রতিষ্ঠানকে অশান্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ৫ মে তাঁর অনুপস্থিতিতে কিছু শিক্ষার্থী রাজনৈতিক ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন ও উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা দেওয়ার মতো “অছাত্রসুলভ” কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালার পরিপন্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে “আওয়ামী পুনর্বাসন” সংক্রান্ত যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা “অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য”। তিনি দাবি করেন, তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর বিগত সরকারের ছাত্রসংগঠনের প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন অপরাধে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব কার্যক্রম কোনো একক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে হয় না, বরং নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়। নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে যে নথিপত্র প্রচার করা হয়েছে, তা চূড়ান্ত ডকুমেন্ট কি না, অভিযোগকারীরা তা যাচাই না করেই প্রচার করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইউজিসির অডিট আপত্তির বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে দুর্নীতির সরাসরি সম্পর্ক নেই। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
ড. আতিয়ার রহমান বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, দীর্ঘ সেশনজট ও একাডেমিক ব্যাকলগ ছিল। গত এক বছরে প্রায় ২৯ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বিদেশি পিএইচডিধারী শিক্ষকও রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধা বৃদ্ধি, ক্যানটিন চালু, পরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র স্থাপনসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “কিছু গুটিকয়েক ছাত্রের কমফোর্ট জোন নষ্ট হওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা মেনে নেওয়া যায় না।”
সংবাদ সম্মেলনের শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ভাইস-চ্যান্সেলর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।